top of page

I'm a title. Click here to edit me

 

I'm a paragraph. Click here to add your own text and edit me. It’s easy. Just click “Edit Text” or double click me to add your own content and make changes to the font. Feel free to drag and drop me anywhere you like on your page. I’m a great place for you to tell a story and let your users know a little more about you.

This is a great space to write long text about your company and your services. You can use this space to go into a little more detail about your company. Talk about your team and what services you provide. Tell your visitors the story of how you came up with the idea for your business and what makes you different from your competitors. Make your company stand out and show your visitors who you are.

 

At Wix we’re passionate about making templates that allow you to build fabulous websites and it’s all thanks to the support and feedback from users like you! Keep up to date with New Releases and what’s Coming Soon in Wixellaneous in Support. Feel free to tell us what you think and give us feedback in the Wix Forum. If you’d like to benefit from a professional designer’s touch, head to the Wix Arena and connect with one of our Wix Pro designers. Or if you need more help you can simply type your questions into the Support Forum and get instant answers. To keep up to date with everything Wix, including tips and things we think are cool, just head to the Wix Blog!

বাণী

 

"বহুরূপে সন্মুখে তোমার, ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর? জীবে প্রেম করে যেই যন, সেই যন সেবিছে ইশ্বর।" 
--------------------------------
“Comfort” is no test of truth; on the contrary, truth is often far from being “comfortable.” 
--------------------------------
"নিজের উপর বিশ্বাস না আসিলে ঈশ্বরে বিশ্বাস আসে না।"
--------------------------------
As body, mind, or soul, you are a dream; you really are Being, Consciousness, Bliss (satchidananda). You are the God of this universe. 
--------------------------------
"সত্যের জন্য সব কিছু ত্যাগ করা চলে কিন্তু কোন কিছুরই জন্য সত্যকে বর্জন করা চলে না।"
--------------------------------
“Arise! Awake! And stop not till the goal is reached”
--------------------------------
"বাহিরের কিছুর উন্নতি হয় না, জগতের উন্নতি করিতে গিয়া আমারই উন্নতি হই ।"

 

বাণী

 

"বহুরূপে সন্মুখে তোমার, ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর? জীবে প্রেম করে যেই যন, সেই যন সেবিছে ইশ্বর।" 
--------------------------------
“Comfort” is no test of truth; on the contrary, truth is often far from being “comfortable.” 
--------------------------------
"নিজের উপর বিশ্বাস না আসিলে ঈশ্বরে বিশ্বাস আসে না।"
--------------------------------
As body, mind, or soul, you are a dream; you really are Being, Consciousness, Bliss (satchidananda). You are the God of this universe. 
--------------------------------
"সত্যের জন্য সব কিছু ত্যাগ করা চলে কিন্তু কোন কিছুরই জন্য সত্যকে বর্জন করা চলে না।"
--------------------------------
“Arise! Awake! And stop not till the goal is reached”
--------------------------------
"বাহিরের কিছুর উন্নতি হয় না, জগতের উন্নতি করিতে গিয়া আমারই উন্নতি হই ।"
--------------------------------
“Strength is life, Weakness is death”
--------------------------------
"একটি চারাগাছকে বাড়ানো তোমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব, একটি শিশুকে শিক্ষা দেওয়াও তোমার পক্ষে ততটুকু সম্ভব, তাহার বেশী নয়। তুমি যেটুকু করিতে পারো, তাহার সবটাই 'নেতি'র দিকে- তুমি শুধু তাহাকে সাহায্য করিতে পারো। শিক্ষা ভিতর থেকে বিকশিত হয়। নিজের প্রকৃতিকে শিশু বিকশিত করিতে থাকে; তুমি কেবল বাধাগুলি অপসারিত করিতে পার।"
--------------------------------
“They alone live who live for others, rest are more dead then alive”

 

পূজা কেন করা হয় পূজা কাকে করা হয়

 

14জু

 

সাধকানাং হিতার্থায়ৈ ব্রহ্মণে রূপকল্পনা …

পূজা করা হয় ‘চৈতন্যময়ী’ প্রকৃতিকে। কেন করা হয়? চৈতন্যময়ী প্রকৃতিকে তুষ্ঠ করতেই পূজা করা হয়; যাতে পূজারী/ভক্তের জীবন হয়ে ওঠে আনন্দময়, হয়ে ওঠে কল্যাণময় । কিন্তু, প্রকৃতিকে কেন চৈতন্যময়ী বলে মনে করা হয় ? এ প্রশ্নের উত্তর আমরা একটু পরে খুঁজব। তার আগে বলি যে, বাংলায় ‘পূজার’ ধারণাটি অতি সুপ্রাচীন। প্রায় তিন হাজার বছর আগে প্রাচীন বাংলায় ‘পূজার’ প্রাথমিক ধারণার উন্মষ বলে মনে করা হয়। কেননা, ‘পূজা’ শব্দটি কিন্তু বৈদিক আর্য দের সংস্কৃত ভাষার শব্দ নয়; ‘পূজা’ শব্দটি অস্ট্রিক ভাষার একটি শব্দ। সুপ্রাচীন বাংলার মানুষ কথা বলত ওই অস্ট্রিক ভাষায়।
সেই প্রাগৈতিহাসিক সময়ে সুপ্রাচীন বাংলায় বাস করত কিরাত ও আদি- অস্ট্রাল জাতি । তবে সুপ্রাচীন বঙ্গে কিরাতদের সংখ্যা ছিল কম; এদের চেহারা ছিল মঙ্গোলয়েডদের মত এবং আদি-অস্ট্রালদের সংখ্যা ছিল বেশি; এদের চেহারা ছিল অষ্ট্রেলিয়ার আদি অধিবাসীদের মতন! এরাই ছিল বাঙালির পূর্বপুরুষ; এরাই কথা বলত ‘অষ্ট্রিক’ ভাষায়। ‘পূজা’ শব্দটি সুপ্রাচীন বাংলায় প্রচলিত এই অস্ট্রিক ভাষারই শব্দ। এরাই প্রকৃতিকে ‘চৈতন্যময়ী’ মনে করত। ‘চৈতন্যময়ী’ প্রকৃতিকে পূজা করত।
তা হলে প্রাচীন বাংলার অষ্ট্রিকভাষী কিরাত ও আদি- অস্ট্রাল জাতি ‘চৈতন্যময়ী’ প্রকৃতিকে পূজা করলেও বর্তমানে কালীপূজা এবং শারদীয় দূর্গাপূজার মন্ত্রপাঠ এবং অন্যান্য কৃত্যের ক্ষেত্রে কেন সংস্কৃত ভাষা ব্যবহার করা হয়? বিশেষ করে আমরা দূর্গাপূজার সময় দূর্গাকে ‘বিদ্যা রূপেণ সংস্থিতা’,কিংবা ‘জ্ঞান রূপের সংস্থিতা’ এসব অভিধায় ভূষিতা হতে শুনি। এর কারণ কী।
খুলে বলছি। পন্ডিতদের অনুমান, বৈদিক আর্যরা প্রাচীন বাংলায় এসেছিল পশ্চিম দিক থেকে । সময়টা? ৮০০ থেকে ৬০০ খ্রিস্টপূর্বের মধ্যে। কিরাত ও আদি অস্ট্রালরা অরণ্যচারী শিকারী ছিল বলেই বৈদিক আর্যরা তাদের বলত ‘নিষাদ’ ( এর মানে ‘ব্যাধ’ বা ‘শিকারী’) জাতি । তারপর কি হল? আর্যদের বৈদিক ধর্মীয় বিশ্বাস নিষাদরা গ্রহন করল। এর মানে প্রাচীন বাংলার নিষাদ জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় বিশ্বাস, আচার-আচরণ ইত্যাদি বদলে গিয়েছিল। বৈদিক ধর্মশাস্ত্র সংস্কৃত ভাষায় লেখা হয়েছিল বলে এবং সেই প্রাচীন সময়ে জীবনের প্রতিটি স্তরেই ধর্মীয় বিধিনিষেধ প্রবল ছিল বলেই প্রাচীন বাংলার নিষাদরা তাদের নিজস্ব ভাষার বদলে সংস্কত ভাষায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল।
অবশ্য আর্যরাও অনার্য নিষাদদের ধর্মীয় চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়েছির।
অনার্য নিষাদদের আদিম ও স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মবিশ্বাস ছিল সাংখ্য, তন্ত্র এবং যোগ। আর্যরা এই তিনটি মতবাদ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে ড. আহমদ শরীফ লিখেছেন:

বৈদিক ভাষায় দেশী শব্দ যেমন গৃহীত হয়েছে, তেমনি যোগপদ্ধতিও হয়েছে প্রবিষ্ট। বস্তুত এই দ্বিবিধ প্রভাব ঋগে¦দেও সুপ্রকট। তা ছাড়া দেশী জন্মান্তরবাদ, প্রতিমা পূজা, নারী, পশু ও বৃক্ষ-দেবতার স্বীকৃতি, মন্দিরোপসনা,ধ্যান, কর্মবাদ, মায়াবাদ এবং প্রেততত্ত্ব দেশী মানস প্রসূত। কাজেই যোগ ও তন্ত্র সর্ব ভারতীয় হলেও অষ্ট্রিক,নিষাদ ও ভোট -চীনা কিরাত অধ্যূষিত বাঙলা-আসাম-নেপাল অঞ্চলেই হয়েছিল এসবের বিশেষ বিকাশ। যোগীর দেহশুদ্ধি এবং তান্ত্রিকের ভূতশুদ্ধি মূলত অভিন্ন ও একই লক্ষ্যে নিয়োজিত। বহু ও বিভিন্ন মননের ফলে, কালে ক্রমবিকাশের ধারায় সাংখ্য, যোগ এবং তন্ত্র -তিনটে স্বতন্ত্র দর্শন ও তত্ত্বরূপে প্রতিষ্ঠা পায়। এবং প্রাচীন ভারতের আর আর ঐতিহ্যের মতো এগুলি আর্যশাস্ত্র ও দর্শনের মর্যাদা লাভ করে।(বাঙলা বাঙালি ও বাঙালীত্ব; পৃষ্ঠা,৪১)

আর এভাবেই বৈদিক আর্যদের সংস্কৃত ভাষায় নিষাদদের মাতৃভাষার শব্দও গৃহিত হয়েছিল। যেমন: ‘পূজা’ শব্দটি। ‘পূজা’ শব্দের অর্থ-শ্রদ্ধা। এর কয়েকটি বৈশিষ্ট্য এরকম।

(১ ) প্রাকৃতিক শক্তিকে ‘চৈতন্যময়ী’ বলে মনে করা;
(২) সেই চৈতন্যময়ী শক্তিকে নিষাদের মানবীয় উপলব্দির সীমানায় নিয়ে আসা;
(৩) সেই চৈতন্যময়ী শক্তির সঙ্গে মাতাপিতার সর্ম্পক স্থাপন করা; এবং
(৪) সেই চৈতন্যময়ী শক্তির পূজা করা।

এই ছিল প্রাচীন বাংলার নিষাদদের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং কৃত্য (রিচুয়াল)। তবে পূজা করার আরেকটি কারণ হল: ভক্তি । এই বিষয়টি সহজেই বোঝা যায়। পূজারীর হৃদয়ে ভক্তি না এলে সে পূজারই-বা কি অর্থ? এই কথাটা আমরা সহজেই উপলব্দি করতে পারি। ভক্তির উন্মেষ যে সুপ্রাচীন বাংলার নিষাদসমাজেই হয়ে এটি আমরা অনুমান করতে পারি।
কিন্তু, নিষাদরা প্রকৃতিকে কেন ‘চৈতন্যময়ী’ বলে মনে করেছিল ?
নিষাদদের কৌম (গোত্রীয়) সমাজটির গড়ন ছিল মাতৃতান্ত্রিক। সমাজবিকাশের অনিবার্য নিয়মে প্রথমে নিষাদসমাজ ছিল শিকারী ও খাদ্যসংগ্রকারী। তারা বাংলার প্রাচীন অরণ্যে ফলমূল কুড়োত। পরে হাতিয়ারের উন্নতি হল; তারা বনভুমি কেটে জমি চাষ করতে থাকে। এভাবে ওদের কৃষিজীবনে উত্তরণ ঘটে । তবে অনুন্নত হাতিয়ারের (টুলস) কারণে কৃষিজীবন ছিল ভারি অনিশ্চিত। ওদিকে গোত্রের জনসংখ্যা ক্রমেই বাড়ছিল। কাজেই প্রকৃতির কৃপার ওপর নির্ভর করা ছাড়া উপায় কী! সেই আদিম নিষাদসমাজটি মাতৃতান্ত্রিক ছিল বলেই প্রকৃতিকে তারা ‘চৈতন্যময়ী’ ভেবেছিল। তারা নারীকে জগতের আদি কারণ বলেও ভাবল । কাজেই অদৃশ্য প্রকৃতিক শক্তিটি ওদের আদিম মনে একজন দেবী হিসেবে প্রকাশ পেলেন, দেবতা হিসেবে নন। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে আর্যরা ভারতবর্ষে আসার পূর্বে শিব ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের প্রধানতম অনার্য দেবতা। একইভাবে, প্রাচীন বাংলাতেও আর্যরা আসার পূর্বে শিব ছিলেন প্রধানতম অনার্য দেবতা। যে কারণে প্রকৃতিকে দেবী কল্পনা করলেও শিব এর গুরুত্ব কখনওই হ্রাস পায়নি। আজও …
সে যাই হোক। বাঙালিসমাজে পরবর্তীকালে দেবী ধারণার স্বতঃস্ফূর্ত বিবর্তন দেখতে পাই, যে দেবী ধারণার উন্মেষ ঘটেছিল সুপ্রাচীন বাংলায় নিষাদদের মাতৃতান্ত্রিক ধর্মীয় ভাবনায়। এই দেবী বাঙালিসমাজে ‘শক্তি’ দেবী নামে পরিচিতা। যারা শক্তি দেবীর উপাসনা করেন তারাই ‘শাক্ত’ বলে পরিচিত।ধর্মতত্ত্বের ভাষায়: শাক্ত-তান্ত্রিক। শক্তিদেবী অবশ্য বাঙালিসমাজে আরও নানা নামে পরিচিতা। যেমন: কালী, কামেশ্বরী, ভীমাদেবী, জগদ্বাত্রী, গন্ধেশ্বরী, অন্নপূর্ণা, বাসুলি, বিপদনাশিনী, সন্তোষীমাতা এবং দূর্গা।
এই যে প্রকৃতিকে দেবীরূপে ভজনা- এই বিশ্বাস, সাধনা, দর্শন ও আরাধনার সমস্ত প্রক্রিয়াকে আমরা একত্রে বলতে পারি- ‘তন্ত্র’। যে তান্ত্রিক বিশ্বাসের উন্মেষ হয়েছিল নিষাদদের ধর্মীয় চেতনায় । কাজেই তন্ত্রের উদ্ভব প্রাচীন বাংলায়। ( দেখুন; তন্ত্র: দুলাল ভৌমিক। বাংলাপিডিয়া)
আলোচনার এ পর্যায়ে এবার একবার মূল প্রশ্নে ফিরে যাওয়া যাক। পূজা কাকে করা হয়? এবং কেন করা হয়? পূজা করা হয় ‘চৈতন্যময়ী’ প্রকৃতিকে। কেন করা হয়? চৈতন্যময়ী প্রকৃতিকে তুষ্ঠ করতেই পূজা করা হয়; যাতে পূজারী/ভক্তের জীবন আনন্দময়, কল্যাণময় হয়ে ওঠে। তন্ত্র হচ্ছে দর্শন বা তত্ত্ব। আর পূজা হচ্ছে পদ্ধতি। পূজার উপচার বা উপকরণ নিষাদরা তাদের নিজস্ব পরিবেশ থেকেই সংগ্রহ করেছিল। পরবর্তীকালে বাংলায় তাদের এই ধারণার (প্রকৃতি কে ‘চৈতন্যময়ী’ বলে মনে করে দেবীরূপে ভজনা করা) বিবর্তিত হয়েছিল। এবং এই নারীকেন্দ্রিক তান্ত্রিক ধারণাটি পল্লবিত হয়েছিল। তন্ত্র সর্ম্পকে একটি ইউরোপিয় সূত্র লিখেছে,

The word “tantra” is derived from the combination of two words “tattva” and “mantra”. “Tattva” means the science of cosmic principles, while “mantra” refers to the science of mystic sound and vibrations. Tantra therefore is the application of cosmic sciences with a view to attain spiritual ascendancy. In another sense, tantra also means the scripture by which the light of knowledge is spread .

তন্ত্রের প্রধান একটি সিদ্ধান্তই হল এই যে প্রাকৃতিক শক্তিকে চৈতন্যময়ী মনে করা। কিন্তু, শক্তি কি? বিশ্বজগতে সবই তো শক্তির সমাহার। যে শক্তিকে বিজ্ঞান নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়। আধুনিক সভ্যতা এই মূলতত্ত্বের ওপরই প্রতিষ্ঠিত। প্রকৃতির সূত্র আবিস্কার করে এই শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করা কতটা যৌক্তিক এই প্রশ্নও তো আজকাল উঠছে । এই দৃষ্টিভঙ্গি হটকারী কিনা, পরিবেশ বিপর্যয়ের মূলে এই দর্শন সক্রিয় কিনা- এসব প্রশ্নও নিয়েও তো আমরা আজ উদ্বিগ্ন।
তো, প্রাকৃতিক শক্তির নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তন্ত্রের সিদ্ধান্ত কি?
তন্ত্র প্রাকৃতিক শক্তির নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না। তার কারণ, তন্ত্র প্রাকৃতিক শক্তিকে চৈতন্যময়ী জেনেছে, মা বলে জেনেছে, মায়ের দেবীপ্রতিমা কল্পনা করেছে; দেবী মা (প্রাকৃতি কে) কে একজন তান্ত্রিক নিষ্ঠাভরে ভজনা করতে চায়, আরাধনা করতে চায়, পূজা করতে চায়। পাশাপাশি একজন তান্ত্রিক মনে করেন, একজন ভক্ত চৈতন্যময়ী শক্তির অনুগত থাকলে চৈতন্যময়ী শক্তির কৃপায় তার অশেষ কল্যাণ সাধিত হতে পারে।
এই হল বিজ্ঞান এবং তন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য।
চৈতন্যময়ী প্রকৃতিরূপী নারীবাদী তন্ত্রের দেবী দূর্গা- কালী- বাসুলী – তারা- শিবানী। কিন্তু তন্ত্রের কেন্দ্রে রয়েছেন (আমি আগেই একবার ইঙ্গিত দিয়েছি) অনার্য দেবতা শিব। তন্ত্রমতে শিব তাঁর শক্তি পেয়েছে কালীর কাছ থেকে। আবার শিব- এর রয়েছে পৃথক নিজস্ব শক্তি। তন্ত্রমতে পুরুষ শক্তিলাভ করে নারীশক্তি থেকে। শিব শক্তি লাভ করেছেন তাঁর নারীশক্তির প্রকাশ- গৌড়ীর শক্তি থেকে। তবে শিবের নিজস্ব শক্তিও স্বীকৃত। তন্ত্রসাধনার মূল উদ্দেশ্যই হল- (প্রাকৃতিক) শক্তি দেবীর সাধনা করে “শিবত্ব” লাভ তথা শক্তিমান হওয়া।
এখানেই বলে রাখি যে- প্রাচীন ও মধ্যযুগের বঙ্গবাসী পরবর্তীকালে নগর গড়ে তুললেও সে তার আদিম পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য কখনও পরিত্যাগ করেনি কিংবা বিস্মৃত হয়নি। এই বাঙালি মননের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। নগরেও পূজা হয়েছে। উপচার হল পূজার উপকরণ। এমন কী, পূজার উপচারেও দেখা যায় নিষাদ উপকরণ। আপত চাল, তিল, জল, দুধ, কুশাগ্র, দই, যব, শ্বেতসরিষা, চন্দন, বিল্বপত্র বা বেলপাতা, কচু, হরিদ্রা, জয়ন্তী, ডালিম, বেল, অশোক, মানকচু, ধান, কলাগাছ, গম, মাষকলাই, তিসি। এ সবই প্রাচীন বাংলার লোকজসমাজের কৃষিপণ্য।
এখানেই বলে রাখি যে প্রাচীন বাংলার নিষাদসমাজের তান্ত্রিক বিশ্বাস ও বাহিরাগত (আর্যরা প্রাচীন বাংলার বাইরে থেকে এসেছিল বলে) আর্যবৈদিক মতের কিছু পার্থক্য রয়েছে। বহিরাগত আর্যদের বৈদিক ধর্মবিশ্বাসটি মূলত পুরুষতান্ত্রিক; পক্ষান্তরে বাংলার অনার্যদের তান্ত্রিক মত মাতৃতান্ত্রিক। তা ছাড়া
আর্যদের বৈদিক মত হল ঋষিজ: তার মানে দার্শনিক বা ফিলোফফিক্যাল। এ কারণে মানবকল্যাণে এর ভূমিকা প্রত্যক্ষ নয়, পরোক্ষ। অন্যদিকে তান্ত্রিকমত মুণিজ বা বিজ্ঞান ভিত্তিক হওয়ায় জগৎসংসারে জীবজগতে এর প্রভাব প্রত্যক্ষ। সনাতনধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিধান্ত হল- দর্শনের সামগ্রিক দৃষ্টি এবং তন্ত্রমতের খন্ডিত বা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টি একত্রিত হলেই জ্ঞান সম্পূর্ণ হয়। এ কারণেই বেদের যজ্ঞ এবং তন্ত্রের পূজা সম্মিলিত ভাবে সনাতনধর্মকে একটি দৃঢ় ভিত্তি দিয়েছে। (দেখুন;রণজিৎ কর; সনাতনধর্ম: মত ও মতান্তর।)
তন্ত্র থেকে তত্ত্ব। তন্ত্রের বৈশিষ্ট্য বা উদ্দেশ্য হল তত্ত্বের সিদ্ধান্তকে জীবনের কর্মক্ষেত্রে রূপদান করা। কাজেই তন্ত্রের প্রচারের 

 

bottom of page